বাংলাদেশ মঙ্গলবার 21, May 2019 - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বাংলা


‘এমন কোনো সুপারস্টার নই যে মানুষ আমাকে মনে রাখবে’

০৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:৩৪:০৩

বিডিটিনিউজ ডেস্ক:

আগামী বছর ইংল্যান্ডে বসবে ওয়ানডে বিশ্বকাপের আসর। আগামী বছর বলা হলেও মূলত বিশ্বকাপের বাকি আছে সাত মাস। মাঝের এই সময়ে বাংলাদেশের কয়েকটি সিরিজ থাকলেও বিশ্বকাপে বিশেষ নজর দিয়ে রেখেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ক্রিকেটের এই মহাযজ্ঞ নিয়ে বেশ আগে আগে থেকেই পরিকল্পনা করে আসছেন তিনি। কিন্তু এর মাঝে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন ১৭ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে আসা মাশরাফি।

আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপত্র তোলার পর থেকেই ওয়ানডে অধিনায়ককে নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়ে আসছে। কেউ পক্ষে মত দিচ্ছেন তো কেউ বিপক্ষে। অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন। এসব প্রশ্ন নিয়ে প্রিয়.কমের মুখোমুখি হয়েছিলেন নড়াইল-২ আসন থেকে নির্বাচন করতে যাওয়া মাশরাফি। দীর্ঘ এই আলাপচারিতা প্রিয়.কমের পাঠকদের উদ্দেশে তুলে ধরা হলো-   

প্রশ্ন: কী ভেবে রাজনীতিতে আসা?

মাশরাফি বিন মুর্তজা: এটা আমার ছোটবেলার শখ ছিল বলতে পারেন। নড়াইলের জন্য বড় পরিসরে কিছু করতে চাইলে এর চেয়ে ভালো মাধ্যম আর হতে পারে না। সব সময়ই আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছি। ক্রিকেট খেলে যতটুকু পেরেছি মানুষের জন্য করেছি। কিন্তু আমার জায়গা থেকে নড়াইলের সবার জন্য করা সম্ভব নয়। কেবল এই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে সেটা করতে পারব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই সুযোগ আমাকে দিয়েছেন। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব নড়াইলের মানুষের জন্য। এ ছাড়া আমার ক্যারিয়ারও শেষের দিকে। বিশ্বকাপের পর আমার ক্যারিয়ার যদি শেষ হয়, নেক্সট সাড়ে চার বছরে কী হবে আমি জানি না। যেহেতু সুযোগ এসেছে, সেটাকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।

প্রশ্ন: ইতিহাসের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে খেলা অবস্থায় নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। এই ব্যাপারটি কীভাবে দেখেন?

মাশরাফি: না, এখন আর কোনো কিছু আলাদাভাবে দেখছি না। যা জীবনে ঘটে যায়, তা আলাদাভাবে দেখার কী আছে। জীবনে যা ঘটে যায়, সেটাই ফেস করতে হয়। এরচেয়েও ভালো-খারাপ কিছু জীবনে ঘটতে পারতো, সেটাও হ্যান্ডেল করতে হতো। এখন এটা ভালোভাবে করতে পারাটাই হবে ভালো জিনিস।

প্রশ্ন: রাজনীতিতে নাম লেখালে কেমন প্রতিক্রিয়া আসতে পারে বলে ধারণা করেছিলেন? আর এখন কেমন দেখছেন?

মাশরাফি: এখনও আসলে পুরোপুরি ওইদিকে ফোকাস করতে পারিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পরে যখন বাড়ি যাব, তখন বুঝেতে পারব।

প্রশ্ন: ১৭ বছরের লম্বা ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অনেক ভালোবাসা পেয়েছেন। কিন্তু রাজনীতিতে নাম লেখানোর পর একদিনের ব্যবধানে আপনি অনেকের অপছন্দের মানুষ হয়ে গেছেন। সমালোচনা হচ্ছে, প্রচুর নেতিবাচক মন্তব্য শুনতে হচ্ছে। এই ব্যাপারটা দেখাটা কতটা কষ্টের?

মাশরাফি: যেটা বললাম, জীবনে যেটা আসবে, ওটাই গ্রহণ করতে হবে। ভালো কাজ যেন করতে পারি, সেটাই চেষ্টা করব।

প্রশ্ন: মনোনয়ন কেনার পরের দিনের অভিজ্ঞতাটা যদি বলতেন…

মাশরাফি: খুব সহজভাবেই নিতে হবে। যেভাবেই দেখেন আপনি এটা হওয়ার কথাই ছিল। এটা সবাই জানে। দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।

প্রশ্ন: ক্রিকেটের নায়কের রাজনীতিতে নামার ব্যাপারটা অনেকেই ইতিবাচক হিসেবে নিতে পারেনি। অনেকেই সমালোচনা করছে, কেউ কেউ গালিও দিচ্ছে। তাদের জন্য আপনার কোনো বার্তা আছে?

মাশরাফি: না, আমি চাইলেও তো অন্যের মাইন্ড চেঞ্জ করতে পারব না। কারণ উনি হয়তো নির্দিষ্ট কোনো দলের অনুসারী। চাইলেই আমি এই জিনিস চেঞ্জ করতে পারব না। আমার জায়গা থেকে আমি যেটা করতে পারি, আমার এলাকায় একটা সুস্থ রাজনীতি করে সবাই যেন একসাথে ভালো কাজ করতে পারে, সেই চেষ্টা করা। এর বেশি করার সুযোগ নেই। যে ইতিবাচকভাবে নিতে চায় নেবে, যে নেতিবাচক হিসেবে নিতে চায় নেবে। এটাই কিন্তু হয়ে আসছে আমাদের দেশে। এটা চেঞ্চ করতে গেলে আলাদা আলাদাভাবে প্রতিটা মানুষের মানসিকতা চেঞ্জ করতে হবে। সেটা যে দলেই হোক। সবারই মানসিকতা চেঞ্জ করতে হবে। এই যে ব্যক্তিগত আক্রমণ, এসব কমাতে হবে। আগে এতো চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিল না, এখন গেছে। একজন আরেকজনের প্রতি সম্মান হারিয়ে ফেলার কারণে এই জায়গায় এসেছে। এটা একটা কারণ বলতে পারেন। যারা স্ট্রাগল করছে, তাদেরকে যতই ম্যাসেজ দেন, তারা বলবে আমরা তো লড়ছি। আওয়ামী লিগ, বিএনবি বা যে দলই বলুন, সব দলকে এক হয়ে বুঝতে হবে আমরা ভালো কাজ কী করতে পারি। এছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই বলে আমার মনে হয়। এটা যে হবেই তা বলা যাবে না, আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করতে পারি। এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। আমি আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করতে পারি, যে যার দল করলো ঠিক আছে কিন্তু কাজগুলো হয় মানুষের উপকারে। স্বার্থ থাকার পরও এই জায়গাটায় এক থাকলে কাজ হয় আর তাতে দেশের উপকার হয়। এখন তো শুধু কাদা ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। এসব কমানো উচিত বলে মনেহয় আমার কাছে।

প্রশ্ন: আপনি প্রায়ই বলেন, ক্রিকেট মানেই জীবন নয়। অথচ ক্রিকেটের প্রতি আপনার নিবেদনের কথা সবার জানা। আপনার হাঁটুতে সাতটি অস্ত্রোপচার হয়েছে। আরও অনেক বাঁধা ছিল। এত কিছুর পরও বলেন, ক্রিকেট মানেই জীবন নয়। এমন মানসিকতার একজন মানুষের জীবনে রাজনীতি কতটা জায়গা করে নিতে পারবে?

মাশরাফি: এটা আসলে সময়ের ব্যাপার। এখনই বলা কঠিন। এই সেক্টররা আমার জন্য পুরোপুরি নতুন। এখনই সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেওয়া কঠিন। এতোদিন ক্রিকেট খেলে আসার পর ক্রিকেট নিয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে পারি। যখন শুরু করেছিলাম, তখন কিন্তু এতোকিছু বলতে পারতাম না। এটা আমার জন্য নতুন একটা অভিজ্ঞতা। সামনে এগোলে বড় পরিসরে এই পশ্নের উত্তর দিতে পারব। এই মুহূর্তে বেশিরভাগ উত্তরই ক্রিকেটিং ওয়েতে পাবেন।

প্রশ্ন: যদি এমন হয় যে, নির্বাচিত হওয়ার পর নড়াইলের জন্য একটা কাজ করার সুযোগ আছে আপনার, সেটা কী হবে?

মাশরাফি: একটা কাজ যদি করতে পারি, সেটা অবশ্যই আমি চাইব যে, মানুষের প্রতি মানুষের রেসপেক্টটা যেন ফিরে আসে। তাহলে কিন্তু আর সব কিছুই সহজ হয়ে যাবে। সবার চিন্তার মূল ফোকাস একটা জায়গায় হওয়ার যে বিষয়, এই জায়গাতে যদি চেঞ্জ আনা যায় তখন দেখবেন একটা এলাকায় কী আছে আর কী নাই, সেটা বিষয় থাকে না। সবাই এক হয়ে ভালো কাজ করাটা কঠিন কাজ। সহজ জিনিস না। কিন্তু সবার চূড়ান্ত লক্ষ্য যদি এমন হয়, কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

প্রশ্ন: এই মুহূর্তে যদি বলা হয় আপনার রাজনৈতিক আদর্শ কে? কার নাম বলবেন?

মাশরাফি: অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর কথা বলব। ছোটবেলা থেকে তার আদর্শ নিয়ে বেড়ে উঠার চেষ্টা করেছি। আমার তো আর তাকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি। বাবা-মায়ের কাছ থেকে শোনা, বই পড়ে জানার চেষ্টা করেছি। সবকিছু মিলিয়ে আমি তার আদর্শ বুকে ধারন করার চেষ্টা করেছি।

প্রশ্ন: হয়তো আরও কয়েক বছর খেলতে পারতেন। রাজনীতিতে নামার কারণে সেটা সম্ভব হবে না। রাজনীতির কারণেই ক্রিকেটকে একটু আগে বিদায় বলে দিতে হবে বলে মনে করেন?

মাশরাফি: আমার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ পর্যন্ত খেলা। এই সময়ে ক্রিকেটে প্রভাব পড়ার কথা না। বিশ্বকাপের আরও ৮ মাস বাকি, এর ভেতর রাজনৈতিক কমকাণ্ডও আর নেই। নির্বাচনের পরও নেই। জেতার পরও থাকার কথা নয়। বিশ্বকাপ পর্যন্ত আমার কাছে মনে হয় না কোনো প্রভাব আসতে পারে। আমার লক্ষ্যই ছিল বিশ্বকাপ। তারপরও হয়তো ভেবে দেখতাম আরও খেলা যায় কি না। অবশ্যই ভেবে দেখতাম। এটা হয়তো এখনও করব। মনেহয় সব কিছু ঠিক চলছে। আসলে এখনই এটা বলা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন: অনেকেরই ব্যাখ্যা, মাশরাফি বিন মুর্তজা পুরো দেশের নায়ক। পুরো দেশের মানুষ তাকে ভালোবাসে। একটি দলের হয়ে নির্বাচন করায় একটা ভাগও তো হয়েছেই, পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রতিনিধি হয়ে গেছেন আপনি। এই বিষয়টি কীভাবে দেখেন?

মাশরাফি: শুধু কারণ খুঁজলেই হবে না। আপনি যে এলাকার, আপনি চাইলে সেই এলাকার হয়ে কাজ করতে পারবেন। আমি নড়াইলের, আমি ওখানের হয়ে কাজ করতে চাই। ওখানে উন্নয়ন হলে পুরো দেশ কি দেখবে না?  বাংলাদেশের বাইরে তো নড়াইল না। দেখেন যদি তাদের মনেহয়, সেই কাজগুলো ভালো সেগুলো করা উচিত। অবশ্যই একটা জেনারেশন নতুন করে চিন্তা করবে। একজন যখন কাজ করে, সে নির্দিষ্ট এলাকাতেই করে। ওটা দেখে আস্তে আস্তে সব জায়গায় ছড়িয়ে যায়। কিন্তু আপনি এভাবে বলতে পারেন না, শুধু নড়াইলের মানুষ। ওভাবে বলার সুযোগই নেই। একটা জায়গায় কাজ করলে ভালো কাজ হয়, সবাই গ্রহণ করে। খারাপ কাজ করলে কেউ গ্রহণ করবে না। উদ্দেশ্য যেটা আমার পরিস্কার, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, যদি সুযোগ পাই কাজ করব। আর আমি বিশ্ব ক্রিকেটে এমন কোনো সুপারস্টার নই যে, মানুষ আমাকে মনে রাখবে।

প্রশ্ন: পরিবারকে মানিয়ে রাজনীতিতে আসা কতটা কঠিন ছিল?

মাশরাফি: সবকিছুই তো নতুন। আমার পরিবারের জন্যও নতুন। ফিল্ডের রাজনীতি তো একেবারেই নতুন। এগুলো মানিয়ে নিতে একটু তো সময় লাগবেই। সেই সময়টা গেলে আসলে বোঝা যাবে। সবকিছুই প্রাথমিক পর্বায়ে আছে। যদি সমস্ত কার্যক্রমের বিবরণ চান, আমি বলতে পারব না। কারণ, আমি একেবারেই নতুন। এসব মোকাবেলা করার পর হয়তো আমি আস্তে আস্তে শিখবো এবং জানব, দেখব। কিন্তু উদ্দেশ্য যদি ঠিক থাকে, তাহলে সব কিছুই ঠিক থাকবে। এখন আমার উদ্দেশ্য ঠিক আছে।

প্রশ্ন: উইন্ডিজের বিপক্ষে এই সিরিজটা ঘরের মাটিতে আপনার শেষ সিরিজ হতে পারে। এই সিরিজের ফল খারাপ হলে কথা উঠতে পারে, আপনার ফোকাস রাজনীতিতে ছিল। এমন একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এই সিরিজে ভালো করাটা কতটা কঠিন?

মাশরাফি: এখানে কোনো কন্ডিশন দিয়ে কিছু সম্ভব না। আপনি এই সিরিজ হারতেও পারেন। এটাই স্বাভাবিক। এর সঙ্গে এটা মেলানোর কিছু নেই। যদিও মানুষ মেলাতে চাইবে। যদি সঠিকভাবে চিন্তা করে, মেলানোর কোনো কারণ নেই।  আমার দিক থেকে আমি এখনও ক্রিকেটেই ফোকাস রেখেছি। আমি এখনও এলাকাতেই যেতে পারিনি।  আমি অনুশীলন করছি। আমি যা করতাম তাই করছি, এখানে আমার লাইফের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন হলে আমার বেশিরভাগ সময় এখানে কাটাতাম না। আগে যা করতাম, তাই করতাম। বাড়তি একটা জিনিস হয়তো আমার মাথায় আছে, তার জন্য  আমার সময় আছে। ১৬ তারিখ আমি নড়াইল গিয়ে মনোযোগী হতে পারব। এটার সঙ্গে ওটার মিল নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে সিরিজ জিততে পারলে ভালো হবে। ওরা সীমিত ওভারের ক্রিকেট ভালো দল। এখানে হার-জিত দিয়ে কিছু মিলিয়ে লাভ নেই। জিম্বাবুরয়ের বিপক্ষে সিরিজাটা যেভাবে দেখছিলাম, এই সিরিজটাকেও সেভাবে দেখছি।

প্রশ্ন: এই সিরিজ ঘরের মাঠে আপনার শেষ সিরিজ হলেও নির্বাচনের কারণে ফোকাসটা অন্য দিকে সরে গেছে। কীভাবে দেখেন বিষয়টা?

মাশরাফি: প্রথমত আমি বলেছি, আমার মাইন্ড সেটআপ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ছিল। আগে মনে হচ্ছিল আমি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর পারবো কি না! তারপরও আমার ফিটনেস ও পারফরম্যান্স আমাকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে। তাই বলছি আমার বিশ্বকাপ পর্যন্ত মাইন্ড সেট আপ আছে। তারপরও আমি ভেবে দেখব বিশ্বকাপের পরও খেলার সুযোগ বা অবস্থা আছে কি না। ২০১১ বিশ্বকাপের পর অনেকেই কিন্তু মনে করেছিল আমার ক্যারিয়ার শেষ। কিন্তু আল্লাহর রহমতে আমি আরও সাত বছর পার করতে পেরেছি। তো সামনে সময় আছে আরও, দেখা যাক কী হয়।

প্রশ্ন: বাংলাদেশে আরও দল আছে। অন্য মতাদর্শের অনেক মানুষ আছে। তাদের মন্তব্য নিয়ে আপনার কী মূল্যায়ন?

মাশরাফি: আমি সবসময় বিশ্বাস করি, নিজের পারসনালিটি থাকা উচিত। আপনি যদি কোনো দলকে সাপোর্ট করেন, তাহলে অবশ্যই সেটা প্রকাশ্যে বলা উচিত। এমন অনেকেই আছে যারা সাপোর্ট করে কিন্তু বলতে পারে না। যে যার দল করে তার সম্মানটা থাকা উচিত এবং তার মতো করে দেশের জন্য কাজ করবে এই মানসিকতাই থাকা উচিত। যারা কমেন্ট করছে বা করবে, এসব আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। আমি নিয়ন্ত্রণ করতে চাইও না।

প্রশ্ন: অনেকে অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করে। অনেকেই সেসব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেন না বা করতে পারেন না। আপনি এই ক্ষেত্রে আলাদা হবে, এটা নিয়ে কতটা আশাবাদী?

মাশরাফি: অনেকের কথা জানি না। আমি আমার ব্যাপারে বলতে পারি। আমি আমার স্বপ্নের কথা বলতে পারি, যেগুলো আমি পূরণ করতে চাই। মানুষকে আমি স্বপ্ন দেখাতে আসিনি। ওই রকম গতানুগতিক কথাও বলতে চাই না। নির্বাচিত হওয়ার পর একটাই লক্ষ্য থাকবে কাজ করা। কাজ দেখে মানুষ বিচার করবে, কোটা গতানুগতিক আর কোনটা ভালো।

প্রশ্ন: নড়াইলের মানুষদের কাছ থেকে কেমন সমর্থন পাচ্ছেন?

মাশরাফি: পরিষ্কারভাবে বলা কঠিন। তবে যতটুকু জানি, ভালো অবস্থাই আছে। নড়াইলে না গেলে ঠিক ওইভাবে বোঝা যাবে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ করে যাব। তখন আসলে বুঝতে পারব ওখনকান মানুষের কতটা সমর্থন আমার জন্য আছে।

প্রশ্ন: গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে অনেক ঘটনাই ঘটেছে। অনেক ক্রিকেটারও সেসব বিষয় নিয়ে তাদের ফেসবুক পেজে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু আপনাকে কিছু বলতে দেখা যায়নি। এই বিষয়টা নিয়ে যদি আপনার অবস্থানের কথা জানাতেন…

মাশরাফি: আমিও আগেও বলেছি এই রাস্তায় আমি পুরোপুরি নতুন। কিছুই জানি না এই পথে। আমার ব্যাকগ্রাউন্ডে শুধুই ক্রিকেট। এই একটা জিনিসের সঙ্গে এতেদিন বসবাস ছিল আমার। সেদিক থেকে আমি কোনো রাজনীতিক নই। তাই গভীর রাজনীতি করার অভিজ্ঞতাও আমার নেই, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার। আমাকে ওইভাবে বিাচর করলে আমার জন্য কঠিন হবে। এই রাস্তায় আমার অভিজ্ঞতা হলে তখন এভাবে ভাবতে পারেন। আমার উদ্দেশ্য একটাই, মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এর বাইরে কিছু নেই আসলে।

প্রশ্ন: মানুষের জন্য কাজ করতে চাওয়া মাশরাফির প্রথম পরিচয় ক্রিকেটার। ভবিষ্যতে ক্রিকেটকে কী দিতে চান। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) থাকার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না?

মাশরাফি: অনেক দূরের কথা বলে ফেলছেন। আমি বর্তমান নিয়ে আছি। তবে হ্যা, ভবিষ্যত নিয়ে তো পরিকল্পনা থাকেই। সেখানে ক্রিকেটে অবশ্যই থাকবে। আমার জায়গা থেকে যতটুকু পারি আমি করব। আর বোর্ডে থাকার ব্যাপারে আসলে সেভাবে কিছু বলার নেই। কাল কী হবে আমি জানি না। তাই অনেক দূরের কিছু নিয়ে কথা বলতে চাই না।

প্রশ্ন: নড়াইলের উন্নয়নে আপনি নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন করেছেন। এই ফাউন্ডেশন দিয়েই তো এগোতে পারতেন। তাহলে কি রাজনীতিতে না নেমে সেটা করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন?

মাশরাফি: আসলে একটি ফাউন্ডেশন দিয়ে একটা এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই ফাউন্ডেশন কী কী কাজ করেছে, সেটা অনেকেরই অজানা। জানানোর মতো বিশেষ কোনো কাজও করতে পারিনি। সেটা সম্ভবও নয়। কিছু কিছু কাজ করেছি। তাতে কিছু মানুষের উপকার হয়েছে। বৃহৎ পরিসরে কিছু করতে চাইলে যেটা দরকার, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেই সুযোগটা আমাকে দিয়েছেন। আমি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই।

প্রশ্ন: নড়াইলের মানুষ আপনাকে কেন ভোট দেবে? একজন প্রার্থী হিসেবে এই ব্যাপারে আপনার কী মূল্যায়ন?

মাশরাফি: প্রার্থী হিসেবে নয় শুধু, একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে এই ব্যাপারে আমার মন্তব্য হচ্ছে, যার কাছে মনে হবে আমি যোগ্য বা আমার গ্রহণযোগ্যতা আছে, তিনি আমাকে ভোট দেবেন। ভোট তো একজনের একটাই। এসবের নিয়ন্ত্রণ আমার কাছে নেই। আমার যেটা করার আছে আমি সেটা করব। বাকিটা সবার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।

প্রশ্ন: আপনার জন্য শুভকামনা থাকবে। কিন্তু আপনার দল যদি না জেতে সে ক্ষেত্রে আপনার অবস্থান কেমন হবে?

মাশরাফি: আমি আগেও বলেছি, কাল কী হবে আমি জানি না। কেউ-ই জানে না। হতেই পারে এমন। এখানে কথা হচ্ছে, আমার উদ্দেশ্য ঠিক আছে কি না। কিংবা আমি ভালো মানসিকতা নিয়ে যাচ্ছি কি না। এর বাইরে আসলে ভাবার তেমন সুযোগ নেই।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন


এ সম্পর্কিত খবর

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান কিনতে বলেছে সংসদীয় কমিটি

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান কিনতে বলেছে সংসদীয় কমিটি

সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা দেড় লাখ টন ধানের চেয়ে আরও বেশি ধান কেনার সুপারিশ করেছে সংসদীয়

রংপুরে অবৈধ পলিথিন উৎপাদন,অসাস্থকর পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা

রংপুরে অবৈধ পলিথিন উৎপাদন,অসাস্থকর পরিবেশে খাবার তৈরির দায়ে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে রংপুর মহানগর এলাকায় পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক মাহিগঞ্জ থানাধীন সাতমাথা এলাকায়

বাংলাদেশ ন্যাশনাল স্টূডেন্ট অর্গানাইজেশন(বিএনএসও)  রংপুরের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত 

বাংলাদেশ ন্যাশনাল স্টূডেন্ট অর্গানাইজেশন(বিএনএসও)  রংপুরের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত 

আজ ২০ মে (সোমবার) ১৪ই রমজান বাংলাদেশ ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশন(বিএনএসও)  রংপুরের ইফতার ও দোয়া মাহফিল


ভূরুঙ্গামারীতে ওসির মোটরসাইকেল চুরি

ভূরুঙ্গামারীতে ওসির মোটরসাইকেল চুরি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ওসির মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে।  জানা গেছে, রোববার বিকেলে ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি (তদন্ত)

সাময়িক বহিষ্কৃত জয় দেবের অভিযোগ যাচাইয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

সাময়িক বহিষ্কৃত জয় দেবের অভিযোগ যাচাইয়ে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুসলিম ধর্মকে সন্ত্রাসবাদ আখ্যা এবং মহানবী( সা:) কে নিয়ে কুটূক্তি করা কুমিল্লা

মুসলিমদের জন্য ইফতারের আয়োজন অযোধ্যার মন্দিরে

মুসলিমদের জন্য ইফতারের আয়োজন অযোধ্যার মন্দিরে

পবিত্র রমজান মাসে সম্প্রীতির বন্ধন বাড়াতে মন্দিরে ইফতারের আয়োজন করেছে অযোধ্যাবাসী। তবে এতে কোন রাজনৈতিক


ব্রাজিলের বারে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১১

ব্রাজিলের বারে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১১

ব্রাজিলের একটি বারে কমপক্ষে ১১ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন,

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আন্দোলন স্থগিত

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আন্দোলন স্থগিত

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর তাদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। রোববার (১৯ মে)

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রার্থী রুমিন ফারহানা

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির প্রার্থী রুমিন ফারহানা

একাদশ সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলের সহআন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি।





ব্রেকিং নিউজ