বাংলাদেশ মঙ্গলবার 21, May 2019 - ৭, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বাংলা


মা দিবস

মায়ের ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রমে নয়, আমাদের হৃদয়ে।

১২ মে, ২০১৯ ১৫:১৯:৩১

একটি ছোট গল্প দিয়ে শুরু করা যাক, গল্পটা আমরা সবাই জানি, একটি " মা মাকড়সার গল্প" একটি "মা মাকড়সা" যে তার সন্তানদের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছে,

একটি মা মাকড়সা কয়েকটি বাচ্চা  প্রসব করলো, জন্ম নেওয়ার পর বাচ্চারা তার মার মাংস আস্তে আস্তে খেতে লাগলো,এক পর্যায়ে মার শরীরটা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেলো, আর ঐ দিকে মার মাংস খেয়ে বাচ্চারা বড় হতে লাগলো, এটাই হলো "মা" যে তার সবকিছু শেষ করে দিয়ে সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখেন। 

আজ (১২) মে আন্তর্জাতিক "মা দিবস" আমার একটা জিনিস বুজে আসে না, মা দিবসের কি দরকার?  মা কে ভালোবাসার জন্য কি কোন নিদির্ষ্ট দিন লাগে?  সারা বছরটাই তো মাকে ভালোবাসার।

মা কি আমাদের নিদির্ষ্ট দিন দেখে ভালোবাসে ? তাহলে আমরা কেন? তবে হ্যাঁ বিশেষ একটা দিন থাকতেই পারে, স্পেশালভাবে একটা দিনে আমরা মাকে ভালোবাসতেই পারি,তবে সমস্যাটা বিশেষ দিনে না,সমস্যাটা হলো অন্য জায়গায়।

আমরা এতো ভালোবাসি আমাদের বাবা-মা কে তাহলে আমাদের দেশে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা কেন বাড়ছে?  নামীদামী সেলিব্রেটিরা কেন বৃদ্ধাশ্রমের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসছে? কেন রাজনীতিবিদরা বৃদ্ধাশ্রম খুলছে? প্রশ্ন কার কাছে করবো? দুঃখ কার কাছে বলবো? 

কারো কাছেই বলবো না,নিজের বিবেকের কাছে জানতে চাইবো এটা তো ইউরোপ আমেরিকা না,এখানে বিজাতীয় সংস্কৃতি চলতে পারে না, পাশ্চাত্য অপ-সংস্কৃতিই আমাদের দেশে বৃদ্ধাশ্রম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে আমি মনে করি।

যে দেশে লিভটুগেদার নেই,যে দেশে ওপেন সেক্সের করা অপরাধ, সে দেশে তো আর যাইহোক বৃদ্ধাশ্রম থাকার কথা না। এই দেশে এক একটি পরিবার এক একেকটা জান্নাত হওয়ার কথা। যেখানে মহানবী (সঃ) বলেছেন,তোমার ঘরেই রয়েছে মক্কা ও মদিনা, তোমরা তাদের সেবা করো। সেখানে রাসূল (সঃ) এর অমর বানী কেউ না মেনে নিজেদের জান্নাত কে পাঠিয়ে দিচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। 

পাশ্চাত্য অপসংস্কৃতি ও ফ্যাশানেবল আধুনিকতায় আমাদের দেশে বৃদ্ধাশ্রম বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে।

কর্পোরেট দুনিয়ায় যাদের কাছে মায়ের মূল্য মাত্র একদিনের তারাই তো মা দিবস পালনের আয়োজন করবে,যারা সারা বছর সময় পাই না!তাই তো তারা মা দিবস পালনের নামে বছরে একদিন মায়ের কাছে যায়। আমার কাছে তো মা দিবস বছরের ৩৬৫ দিনই।

চলুন যেনে আসি মা দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, 

ইতিহাসবিদদের মতে, এই দিনটি প্রাচীন গ্রিসের মাতৃ আরাধনার প্রথা থেকে সূত্রপাত হয়। কথিত আছে ১৬ শতকে ইংল্যান্ডে প্রথম মা দিবস পালন হয়। এটাই ছিল দেব-দেবীদের মা ছাড়া নিজের আসল মাকে নিয়ে মানে রক্ত মাংসের মা’কে নিয়ে মা দিবস। দিবসটি তারা মাদারিং ডে হিসেবে পালন করতো। সেদিন সরকারি ছুটিও ছিল। পরিবারের সবাই তাদের মায়ের সাথে দিনটি কাটাতো। তবে এই দিবসটি ততোটা প্রসার লাভ করেনি।

প্রায় ১০০ বছর পর ১৮৭০ সালে আমেরিকার জুলিয়া ওয়ার্ড হাও নামের এক গীতিকার মা দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। তিনি আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় একটি দেশাত্মবোধক গান লিখেছিলেন। সে গানটা সে সময় বেশ জনপ্রিয় ছিল। আমেরিকায় গৃহযুদ্ধের সময় হাজার মানুষকে হত্যা করা হচ্ছিল কারণে বা অকারণে। এক মায়ের সন্তান আরেক মায়ের সন্তানকে হত্যা করছিল অবলীলায়। এই সব হত্যা দেখে জুলিয়া খুব ব্যথিত হয়েছিলেন। তিনি এটা বন্ধ করার জন্য আমেরিকার সব মাকে একসাথে করতে চাচ্ছিলেন। আর এ কারণেই তিনি আন্তর্জাতিক মা দিবস পালন করতে চাচ্ছিলেন।

এদিকে ভার্জিনিয়ার মহিলাদের একটি দল জুলিয়া ওয়ার্ড হাও-এর প্রস্তাবিত মা দিবসটি পালন করতো বেশ মর্যাদার সঙ্গেই। অ্যানা রিভেস জারভিস তার জীবনের সুদীর্ঘ ২০ বছর কাটিয়েছিলেন ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনের একটি গির্জায়। সেখানে তিনি সানডে স্কুলের শিক্ষকতা করেছেন। তার মৃত্যুর পর তার মেয়ে অ্যানা এম জারভিস মা দিবস ঘোষণা আন্দোলনের হাল ধরেন। 

অ্যানা জীবিত ও মৃত সব মায়ের প্রতি সম্মান জানানোর তথা শান্তির জন্য এই দিবসটি পালন করতে চাচ্ছিলেন। এই লক্ষ্যে তারা ১৯০৮ সালে গ্রাফটনের ওই গির্জার সুপারিনটেনডেন্টের কাছে একটি আবেদন জানায়। তার অনুরোধে সাড়া দিয়ে সে বছরই ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভেনিয়ার কয়েকটি গির্জায় মা দিবস পালিত হয়। এভাবে অনেকেই প্রতিবছরই মা দিবস পালন করতে শুরু করে।

এরপর অনেক পথ পেরিয়ে ১৯১৪ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে জাতীয় মা দিবসের মর্যাদা দেয়। আরও পরে ১৯৬২ সালে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।(ইতিঃতথ্য সূত্র = নেট) 

 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আলাদা আলাদাভাবে মা দিবস পালন করে থাকে।বর্হিবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও মা দিবস পালিত হয়ে আসছে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে।

 

২০০৩ সাল থেকে আজাদ প্রোডাক্টস প্রাঃ লিঃ রত্নাগর্ভা মায়েদের সম্মননা দিয়ে আসছে।

সুইডেন, জাপান,মেক্সিকো, তাইওয়ান তাদের নিজস্ব রীতিতে মা দিবস পালন করে থাকে।

 

এতো কিছুর পরও হতাশার বানী হলো বৃদ্ধাশ্রম। এতো ভালোবাসি তাদের,তাহলে জীবনের শেষ সময়ে আমার বাবা- মার স্হান কেন বৃদ্ধাশ্রমে হবে? যেই পিতামাতার সম্মানের প্রতি পবিত্র কুরআনে ও মহানবী (সঃ) গুরাত্বরোপ করেছেন এরপরও কি আমরা উনাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে পেরেছি? যদি সম্মান আর সঠিক ভালোবাসা দিতে পারতাম তাহলে তাদের স্হান বৃদ্ধাশ্রমে হতো না।

 

পরিবার,সবাই কে নিয়ে এক সাথে বসবাস করার একটি সুন্দর নাম।সন্তানদের নিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেন পিতা-মাতা।সকলের সুখের জন্য যেই সংসারটি শত কষ্ট আর আঘাতের মাধ্যমে গড়ে তুলেন মা-বাবা, একটা সময় সেই সুখের সংসারে তাদের আর স্হান হয় না,, তাদের স্হান হয় বৃদ্ধাশ্রমে। যেই বয়সে সন্তান আর নাতীনাতনীদের ভালোবাসায় থাকার কথা সেই বয়সে উনারা জীবন যাপন করেন আবদ্ধ এক নিরব পরিবেশে। বর্তমান সময়ে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ও অর্থনৈতিক নানা পরিবর্তনের ফলে যৌথ পরিবার গুলো ভেঙে যাচ্ছে, বাড়ছে প্রবীনদের প্রতি অবহেলা আর বঞ্জনা।

 

একটা সময় মাকে আমার খুবই প্রয়োজন ছিলো আজ আর প্রয়োজন নেই,তাই তাদের আশ্রয়স্হল হলো আবদ্ধ বৃদ্ধাশ্রমে। একদিন আপনিও বৃদ্ধ হবেন,বয়সের বাড়ে নতজানু হয়ে যাবেন,তখন আপনার স্হান কোথায় হবে একবার ভেবেছেন কি? বৃদ্ধাশ্রম কিংবা রাস্তার পাশ যেন আপনার  ঠিকানা না হয়।

 

বৃদ্ধাশ্রম কিংবা রাস্তার পাশে আমাদের ঠিকানা হোক এটা আমরা কেউ চাই না,,,  তাই আজকে মা দিবসে আমাদের অঙ্গিকার হোক, যেই মা আমাদের নিজের শরীর ক্ষয় করে লালনপালন করেছেন, আমরাও মাকে সেই রকম ভালেবাসা দিয়েই সেবাযত্ন করবো।

আমাদের কারো মায়ের ঠিকানায় যেন বৃদ্ধাশ্রম না হয়, বৃদ্ধাশ্রমের একটি সিটও যেন আর কোন মায়ের জন্য বরাদ্দ না  হয়।

মায়ের ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রমে নয়, আমাদের হৃদয়ে। 

পরিশেষে মহানবী (সঃ) এর শিখানো দোয়া দিয়েই শেষ করতে চাই, হে আমার প্রতিপালক, আমার পিতামাতাকে আপনি ঠিক সেই ভাবেই লালনপালন করুন,যেইভাবে শিশু অবস্থায় উনারা আমাদের লালনপালন করেছেন। আমিন।

 লেখক = 

মাসুম বিল্লাহ 

শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন


এ সম্পর্কিত খবর

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আন্দোলন স্থগিত

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আন্দোলন স্থগিত

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ২২ ঘণ্টা পর তাদের আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। রোববার (১৯ মে)

ধর্ম অবমাননার দায়ে কুবি শিক্ষার্থী আটক

ধর্ম অবমাননার দায়ে কুবি শিক্ষার্থী আটক

"পৃথিবীর সকল মুসলমানরা সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাস করে, যা হযরত মুহাম্মদ (স) শিখিয়েছেন"-এমন মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনা

সৌম্য-মোসাদ্দেকে ভর করে ইতিহাসের প্রথম ফাইনাল জিতল বাংলাদেশ

সৌম্য-মোসাদ্দেকে ভর করে ইতিহাসের প্রথম ফাইনাল জিতল বাংলাদেশ

মাশরাফি বিন মুর্তজা ‘মানসিক বাধা’র কথা বলেছিলেন। বাংলাদেশ যে বাধাটা কেন যেন উতরে যেতে পারছিল


আদিত্যের বিরুদ্ধে যৌননিগ্রহের অভিযোগ বলিউড কুইন কঙ্গনার

আদিত্যের বিরুদ্ধে যৌননিগ্রহের অভিযোগ বলিউড কুইন কঙ্গনার

৫৪ বছর বয়সীয় আদিত্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এক মাস আগেই দায়ের করেন কঙ্গনা ও

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা কেন পড়ানো হয় না?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা কেন পড়ানো হয় না?

 বাংলাদেশের মানুষের মাতৃভাষা বাংলা হলেও, দেশটির বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েই উচ্চ শিক্ষা হিসাবে বাংলা পড়ার কোন

ঠাকুরগাঁও ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) এর আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী ইফতার মাহফিলে

ঠাকুরগাঁও ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) এর আয়োজনে ঐতিহ্যবাহী ইফতার মাহফিলে

ঠাকুরগাঁওয়ে ইকো সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ইএসডিও) ইফতার মাহফিল বিশিষ্টজনদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। এতে জেলার


ধানের দাম চাহিদা মত না হওয়ায় মানববন্ধনে হাবিপ্রবি’র সাধারণ শিক্ষার্থীরা

ধানের দাম চাহিদা মত না হওয়ায় মানববন্ধনে হাবিপ্রবি’র  সাধারণ শিক্ষার্থীরা

ধানের ন্যায মূল্য প্রদানের দাবীতে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) মানববন্ধন

কুড়গ্রিামে ‘সুলতানা সরোবর’ : যেথা রামধনু উঠবে হেসে

কুড়গ্রিামে ‘সুলতানা সরোবর’ : যেথা রামধনু উঠবে হেসে

খুব দ্রুত দেশের জেলা ও মফস্বল শহরগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়ছ।  যান্ত্রকিতার চাপে আজ নগর জীবন

মিঠাপুকুরে ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়ারিং এর যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠিত

মিঠাপুকুরে ইলেকট্রিক্যাল হাউজ ওয়ারিং এর যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠিত

স্বে”ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে বেকারদের আত্মকর্মসংস্থান করার লক্ষ্যে মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতি(এমজেএসকেএস)এর মাধ্যমে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায়





ব্রেকিং নিউজ